1. bdweb24@gmail.com : admin :
  2. him@bdsoftinc.info : Staff Reporter : Staff Reporter
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
পীর-মাশায়েখের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার গুরুত্ব ড. মুহাম্মদ নাছিরউদ্দীন সোহেল দেবীদ্বারে ‘শান্তা লাইফ ইন্স্যুরেন্স’র মাঠ কর্মীদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা কুমিল্লায় ছিনতাই ও মাদক সেবনের অভিযোগে দেশীয় অস্ত্রসহ ১৯ জন গ্রেপ্তার দেবীদ্বারে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য র‌্যালি দেবীদ্বারে ব্যাংকে গ্রাহকের ৪ লক্ষ টাকা চুরি, চোর বিপ্লব(কালু)কে গ্রেফতার অন্তর্বর্তীকালীন ইউনুস সরকার এর সার্বভৌমত্ব বিরোধী চুক্তি বাতিলের দাবিতে (সিপিবি)র মানববন্ধন দেবীদ্বারে ক্ষেতমজুর সমিতির সম্মেলনে লিল মিয়া সভাপতি ও রোবেল মিয়া সাধারণ সম্পাদক দেবিদ্বারে ভুল চিকিৎসা অপপ্রচার ব্যর্থ, সুস্থ মা ও নবজাতক ছাড়পত্র দিল হাসপাতাল দেবীদ্বারে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত Coronavirus disease 2019

পীর-মাশায়েখের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার গুরুত্ব ড. মুহাম্মদ নাছিরউদ্দীন সোহেল

রিপোর্টার
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৭১ বার দেখা হয়েছে
পীর-মাশায়েখের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার গুরুত্ব ড. মুহাম্মদ নাছিরউদ্দীন সোহেল
{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"square_fit":1,"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}
  • ড.মুহাম্মদ নাছিরউদ্দীন সোহেল

ইসলাম এমন একটি জীবনব্যবস্থা, যেখানে ইমান, আমল, আখলাক, ভ্রাতৃত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। যাঁরা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করেছেন এবং মানুষকে সত্য, ন্যায়, তাকওয়া ও আল্লাহর পথে আহ্বান করেন, তাঁদের পারস্পরিক ঐক্য সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পীর-মাশায়েখের ঐক্য শুধু তাঁদের নিজেদের পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয় নয়; বরং এটি সাধারণ মানুষের মধ্যে ঐক্য, ভালোবাসা ও ইসলামি চেতনা প্রতিষ্ঠার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হতে পারে। ইতিহাস গবেষণা করলে দেখা যায় যে, আমাদের দেশে সুদূর আরব ও পারস্য থেকে সূফী ও আউলিয়ায়ে কেরাম এসে ইসলাম ধর্ম প্রচার করেন। এই দেশের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ তাঁদের কাছ থেকে কালেমা পড়ে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আসেন। তাঁদের প্রচেষ্টায় বর্তমানে আমাদের দেশের ৯১.০৪ শতাংশ মানুষ মুসলমান। এদেশের মানুষের প্রাণে অলী-আল্লাগণ ইসলামের সুমধুর সুর বাজিয়েছেন। তাঁরা উত্তম আদর্শ, প্রেম ও ভালোবাসা দিয়ে মানুষের মন জয় করে এদেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁদের আচার আাচরণ, দৃষ্টিভঙ্গি, শিক্ষা, কর্ম সবকিছু সাধারণ মানুষের জন্য অনুসরণীয়। আমাদের পূর্ব পুরুষেরা তাঁদের নিকট থেকে বাই‘আত গ্রহণ করে আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণের শিক্ষা লাভ করেন। তাঁদের প্রচেষ্টায় আজ বাংলাদেশ ৪র্থ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে বিশ্বে পরিচিত লাভ করেছে।
মহান আল্লাহ বলেন, “তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে ধারণ করো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।” (সূরা আলে ইমরান: আয়াত ১০৩) এই আয়াতে আল্লাহ মুমিনদের ঐক্যবদ্ধ থাকার সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। আউলিয়ায়ে কেরাম যখন আল্লাহর সন্তুষ্টি, হজরত রসুল (সা.)-এর আদর্শ এবং ইসলামের কল্যাণকে সামনে রেখে একত্রিত হন, তখন তাঁদের ঐক্য এই কুরআনি নির্দেশনার একটি বাস্তব প্রতিফলন। আল্লাহ বলেন, “তোমরা পরস্পর বিবাদে লিপ্ত হয়ো না; তাহলে তোমরা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং তোমাদের শক্তি বিলুপ্ত হবে।” (সূরা আনফাল: আয়াত ৪৬) এই আয়াতের মধ্যে ঐক্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দর্শন রয়েছে। কোনো মহৎ উদ্দেশ্যে নিয়োজিত ব্যক্তিরা যদি পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন, তাহলে তাঁদের সম্মিলিত শক্তি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। বিপরীতে, তাঁরা যদি পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একত্রিত থাকেন, তাহলে কল্যাণকর কাজের পরিধি বৃদ্ধি পায়। আউলিয়ায়ে কেরামের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের প্রত্যেকের নিজস্ব দরবার, খানকাহ, সংগঠন, অনুসারী বা কর্মক্ষেত্র থাকতে পারে; কিন্তু ইসলামের স্বার্থে ও মানবিক কল্যাণের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা তাঁদের কাজকে আরও ফলপ্রসূ করতে পারে। আল্লাহ বলেন, “সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে তোমরা পরস্পর সহযোগিতা করো।” (সূরা মায়িদা: আয়াত ২) এই আয়াত আউলিয়ায়ে কেরামের ঐক্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হতে পারে।
হজরত রসুল (সা.) বলেন, “মুমিনদের পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া ও সহমর্মিতার দৃষ্টান্ত একটি দেহের মতো।” (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম) দয়াল রসুল (সা.) মুমিনদের পরস্পরের জন্য একটি ভবনের মতো হওয়ার কথা বলেছেন, যার এক অংশ অন্য অংশকে শক্তিশালী করে। আউলিয়ায়ে কেরামও যদি পরস্পরের মর্যাদা ও অবদানকে স্বীকার করে একে অপরের সহযোগী হন, তাহলে বৃহত্তর কল্যাণের পথ সুগম হয়। বিভিন্ন আধ্যাত্মিক ধারার মধ্যে পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে সত্য, তাকওয়া, মানবকল্যাণ ও দ্বীনের মৌলিক শিক্ষার ক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধ হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামের ইতিহাসে বিভিন্ন বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য হয়েছে। কিন্তু মতপার্থক্য যেন শত্রুতা, বিদ্বেষ বা পারস্পরিক অসম্মানে পরিণত না হয়, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ বলেন, “মুমিনগণ পরস্পর ভাই ভাই।” (সূরা হুজুরাত: আয়াত ১০) কোনো বিষয়ে মতের পার্থক্য থাকলেও ইমানি ভ্রাতৃত্ব, পারস্পরিক সম্মান ও সৌহার্দ্য বজায় রাখা উচিত। সমাজের সাধারণ মানুষ তাঁদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক নেতাদের অনুসরণ করে। যদি তাঁরা পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, সহনশীল ও ঐক্যবদ্ধ থাকেন, তাহলে তাঁদের অনুসারীদের মধ্যেও সেই সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়ে। ঐক্য মানে সবাইকে একই ব্যক্তি, একই প্রতিষ্ঠান বা একই পদ্ধতির অনুসারী হয়ে যেতে হবে, এমন নয়। ঐক্য হলো মৌলিক ইমানি ও নৈতিক মূল্যবোধে এক থাকা, পরস্পরের সম্মান রক্ষা করা, বিভেদ সৃষ্টি না করা এবং কল্যাণকর কাজে সহযোগিতা করা। ভিন্নতা থাকতে পারে; কিন্তু ভ্রাতৃত্ব নষ্ট হওয়া উচিত নয়। মতপার্থক্য থাকতে পারে; কিন্তু হৃদয়ের সম্পর্ক নষ্ট হওয়া উচিত নয়। সম্প্রতি ঢাকার অফিসার্স ক্লাবে ইমাম প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা (মা. আ.) হুজুর কেবলাজানের আহ্বানে ‘পীর-মাশায়েখ ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.) পুনর্মিলনী ২০২৬’ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও ইরানের প্রায় ৩ হাজার পীর-মাশায়েখ উপস্থিত হয়ে পারস্পরিক ঐক্যের আহ্বান করেন, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। আউলিয়ায়ে কেরাম যদি ঐক্যবদ্ধ হন, তাহলে তাঁদের ঐক্য হতে পারে সমাজের জন্য শান্তি, সম্প্রীতি ও নৈতিক জাগরণের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। তাঁদের ঐক্য হবে বিভেদের বিরুদ্ধে একটি নীরব বার্তা, ভ্রাতৃত্বের একটি জীবন্ত দৃষ্টান্ত এবং মানবকল্যাণের পথে একটি সম্মিলিত অঙ্গীকার।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২০