1. bdweb24@gmail.com : admin :
  2. him@bdsoftinc.info : Staff Reporter : Staff Reporter
সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
অন্তর্বর্তীকালীন ইউনুস সরকার এর সার্বভৌমত্ব বিরোধী চুক্তি বাতিলের দাবিতে (সিপিবি)র মানববন্ধন দেবীদ্বারে ক্ষেতমজুর সমিতির সম্মেলনে লিল মিয়া সভাপতি ও রোবেল মিয়া সাধারণ সম্পাদক দেবিদ্বারে ভুল চিকিৎসা অপপ্রচার ব্যর্থ, সুস্থ মা ও নবজাতক ছাড়পত্র দিল হাসপাতাল দেবীদ্বারে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত Coronavirus disease 2019 বগুড়ায় মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবার মৃত্যুদণ্ড ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই ক্যামেরায় ২৪ ঘণ্টায় ৪৪৯ মামলা ক্যামব্রিজ ও লেভেলে সাত বিষয়ে এ প্লাস পেলেন সাফওয়ান হোসেন দেবীদ্বারে খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল দেবীদ্বারে ১৪ পলিব‍্যাগে মিলল বাড়ির মালিকের অর্ধশত টুকরা; মাথা পাওয়া গেলেও পাওয়া যায়নি পা

যমুনার ভাঙ্গনে নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ

রিপোর্টার
  • আপডেট : শুক্রবার, ২১ অক্টোবর, ২০২২
  • ৫৯৩ বার দেখা হয়েছে

কাইয়ুম মাহমুদ সিরাজগঞ্জঃ

যমুনা নদীর ভাঙ্গনে বাস্তুহারা হয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে সিরাজগঞ্জের হাজার হাজার মানুষ। এক সময়ের সম্পদশালী মানুষগুলো ফসলী জমিসহ সব হারিয়ে রাস্তায় বসতে শুরু করেছে। নতুন করে বসতভিটা গড়ে তোলার জায়গাসহ সামর্থ্য না থাকায় শতশত পরিবার রাস্তার ধারে ঝুপড়ি তুলে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিলীন হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীর জীবন অঙ্কুরেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। হাট-বাজার-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিলীন হওয়ায় অনেকে বেকার জীবনযাপন করছে। তাঁত কারখানা বিলীন হয়ে যাওয়া শ্রমিকরা মানবেতর জীবনযাপন করছে। গাছপালা বিলীন হওয়ায় পরিবেশের ভারসাম্য হারিয়ে যাচ্ছে। ভাঙ্গনের কারনে একটু একটু করে যমুনার গর্ভে চলে যাচ্ছে জেলার মানচিত্র। আর ভাঙ্গনকবলিতরা ভাঙ্গনের পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দায়ী করে বলছেন, সবকিছু হারিয়ে কস্টে থাকলেও কেউ আমাদেও পাশে দাঁড়ায় না।

জানা যায়, বর্তমানে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার সদিয়াচাঁদপুর ইউনিয়নের সদিয়া চাঁদপুর, দেওয়ানতলা, সংকরহাটি, গাবেরপাড়, মাঝগ্রামে গ্রামে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গনে চাঁদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাকা ভবনসহ প্রায় অর্ধশত বসতভিটা ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে চাঁদপুর তা-মীরুল মিল্লাত হাফিজিয়া মাদ্রসা, সদিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মহেশপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মৌহালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, শাহপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, এলাঙ্গী আটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ শতশত বসতভিটা ও ফসলী জমি। বেলকুচি উপজেলার বেতিল স্পার বাঁধে ধ্বস নামতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত দেড়শ মিটার এলাকা বিলীন হয়ে গেছে। এতে হুমকির মুখে রয়েছে এলাকার মৎস্য ডিপ্লোমা ইন্সটিটিউট, ভেটেরিনরি কলেজ, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর আজুগড়া সাবমেরিন কেবল সাইডের সার্স লাইন ও ফসলী জমি, বসতভিটা।

শাহজাদপুর উপজেলার জালালপুর উত্তরপাড়ায় মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ওই গ্রামের আরিস আলী, মন্টু, আফান, চাঁন মিয়া, মজিবর, আব্দুস সালাম, ওমর আলী, আবু হানিফ, পলাশ মন্ডল, বাবু, সাদ্দাম, শান্তা মিয়া, গোলাম মোস্তফা, আব্দুল আলীম, রহিমা খাতুন ও জীবনসহ অনেকের বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে গাছপালা ও জমি-জমাও নদীগর্ভে চলে গেছে। এছাড়াও চৌহালী উপজেলার যমুনার পুর্বতীরে ভাঙ্গনে প্রতিদিনই মানুষ বাস্তুহারা হয়ে পড়ছে। ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষগুলো নিঃস্ব হয়ে খোলা আকাশের নিচে দিনযাপন করছে। তারা কোথায় থাকবে, কোথায় যাবে তার নিশ্চয়তা নেই।

অনেকে ঘরবাড়ী ভেঙ্গে স্তুপ করে অন্যের বাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছে। কেউবা জমি ভাড়া করে ঝুপড়ি তুলে কেউবা ওয়াপদার পাশে সরকারী জায়গায় ঝুপড়ি তুলে বসবাস করছে। কাজ কর্ম না থাকায় অনাহারে-অর্ধাহারে তাদের জীবন কাটছে। এতো কস্টে থাকলেও কেউ তাদের দাড়াচ্ছে না।

ভাঙনকবলিতরা বলেন, ভাঙনের তীব্রতা এতো বেশি যে এলাকাবাসী ঘরবাড়ি সরানোরও সময় পাওয়া যাচ্ছে না। চোখের পলকে তাদের সহায় সম্বল গ্রাস করে নেয় রাক্ষুসী যমুনা। তাদের অভিযোগ ভাঙ্গন থাকলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড কোন ব্যবস্থা নেয় না। ভাঙ্গনের পর জিওব্যাগ ফেলে। আবার কয়েকদিন পর ভাঙ্গনে জিওব্যাগসহ সবকিছু বিলীন হয়ে যায়।

জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মহির উদ্দিন জানান, যমুনার পানি কমা এবং বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন শুরু হয়। প্রতিদিনই নদী তীরবর্তী মানুষ বাড়িঘর ও জমি-জমা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন। ভাঙ্গন শুরু হলে শুধু খালি-হাতে ঘর থেকে হতে হয়। মুহুর্তের মধ্যে সবকিছু নদীগর্ভে চলে যায়। গত এক সপ্তাহে ৫০টির মতো বাড়িঘর বিলীন হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড যদি সঠিক সময় কাজ করতো তবে ভাঙ্গন হতো না।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, জালালপুরে ভাঙ্গনরোধে কাজ শুরু হয়েছে। পানি নেমে গেলে ড্রেজিং করে গতিপথ পরিবর্তন এবং সিসি ব্লক দিয়ে স্থায়ী তীর সংরক্ষন বাঁধ নির্মাণ করা হবে। আর চৌহালীর সদিয়াচাঁদপুরে এলাকাতে প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে। এছাড়া বেলকুচি স্পার আপাতত জিওব্যাগ ফেলে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। পানি নেমে গেলে সংস্কার করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২০