
শ্রেণী কক্ষে তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রীর স্পর্শ কাতর স্থানে হাত দিয়ে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ এনে এক শিক্ষককে দফায় দফায় মারধর ও বেঁধে রেখে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংবাদ পেয়ে দেবীদ্বার থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রোববার রাত ১১টায় নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করিয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের ব্রাহ্মনখাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর পাঠদানকালে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণখাড়া বটতলা বাজারে শিক্ষকের অনৈতিক কাজের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী। অপর দিকে সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও এলাকাবাসী।
নির্যাতিত শিক্ষক মো. খোরশেদ আলম(৫০) উপজেলার ব্রাহ্মণখাড়া গ্রামের মৃত শব্দর আলীর ছেলে এবং ব্রাহ্মণখাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।
ওই ঘটনার বিষয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর ধারন করা স্বাক্ষাৎকারের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় তীব্র সমালোচনার ও নিন্দার ঝর উঠে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে শিক্ষককে বলতে শোনা যায়, আমাকে ক্ষমা করে দিন, আমি আর কখনো এমনটা করবনা। এমনকি জুয়া খেলবো না। অপর দিকে ওই ভিক্টিম শিক্ষার্থী বলতে শোনা যায়, স্যার একাধিকবার আমার বুকে হাত দিয়েছে, আমি বার বার হাত সড়িয়ে দিলেও স্যার একই কাজ করেন। স্যার প্রাইভেট পড়তে বলেন, আমি রাজী হই নাই। স্যার বলেছেন আমি তোমাকে আদর করেছি, এ কথা কাউকে বলবেনা, তাহলে আমার সম্মান থাকবেনা
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অভিযুক্ত শিক্ষক মো. খোরশেদ আলম বলেন, স্কুল ম্যানেজিং কমিটিতে বিদ্যুৎশাহী পদে প্রস্তাবিত তালিকায় বিল্লাল হোসেনকে ২ নম্বরে রাখায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে আমার বিরুদ্ধে এ মিথ্যা অপবাদ দিয়ে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন।
তিনি আরো বলেন, গতকাল বিকেলে গোলাম জিলানী, মোরশেদ আলম, মো. কামরুল ইসলাম, রিফাত, ফরহাদের নেতৃত্বে ১০/১৫ জন সন্ত্রাসী, এলাকার চিহ্নিত মাদকাসক্তরা আমাকে স্কুল থেকে বের করে পিটিয়ে মারাত্মক আহত ও রক্তাক্ত করেছে। ওরা আমার শার্ট-প্যান্ট ছিরে পকেটে থাকা ৩৯ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। সন্ধ্যার পর ফরহাদের নেতৃত্বে আবারো হামলা হয়, ফরহাদ আমার হাত বেঁধে মারধর করে ফনিন্দ্র চক্রবর্তীর চা দোকানে আটকে রাখে। এ ঘটায় আমার ছেলে আরিফ বাদী হয়ে ১০ জনকে নামে সহ অজ্ঞাত ২০/২৫ জনকে আসামী করে থানায় অভিযোগ পত্র জমা দিয়েছেন।
ভিক্টিম শিশুটির বাবা প্রবাসী, তার চাচা গোলাম জিলানী বলেন, খোরশেদ মাস্টারের চরিত্র খারাপ, ইভটিজিং এর একাধিক অভিযোগই নয়, এলাকার একজন চিহ্নীত জুয়ারী। সত্য ঘটনা পরিস্কার উদঘাটন হবে যদি শ্রেণী কক্ষের সিসি ক্যামেরার ভিডিও উন্মোচন করা হয়। ওই ঘটনায় খোরশেদ মাস্টারের অনৈতিক ঘটনায় আমার পিতা অর্থাৎ ভিক্টিমের দাদা সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন জানান, আমি বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জেনেছি শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে তাকে লাঞ্ছিত করেছে।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বিদ্যালয় পরিদর্শনে যেয়ে শিক্ষক ও স্থানীয়দের তথ্যমতে ওই শিক্ষক ২০/২৫ বছর চাকরি করে, তার বিরুদ্ধে অনৈতিক কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। স্কুল কমিটির বিদ্যুৎসাহী সদস্যরা নিয়ে দ্বন্দ্বে প্রতিপক্ষ এ কাজটি করেছে। তবে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখার পরই বিষটা নিশ্চিত হব। উভয় পক্ষই থানায় অভিযোগ করেছে, এখনো কোন অভিযোগ নথিভূক্ত করা হয়নি।